নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আটদিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৩২) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে।
নির্যাতনের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নড়াইল সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই নবীর হোসেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। ওইদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারারাত বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।
বিবরণে বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে। পরেরদিন গত ২৫ জুন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন বলেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। ঘটনার দিনও আনোয়ার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়েছে অভিযুক্তরা। অনেক চেষ্টা করেও আমার ছোট ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক বিচার দাবি করছি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা দাবি করে বলেন, আনোয়ার নামের ওই ব্যক্তি তাদের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। চোর, চোর… বলে ডাক দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে। তাকে কে বা কারা মারধর করেছে, তা জানি না। আমার ছেলে প্রসেনজিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, আনোয়ারের মৃত্যুর পর আগে দায়ের হওয়া মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা গেজেট/এএজে

